ম্যানড্রিভা ২০১১ ( এ জার্নি বাই লিনাক্স )

বেশ কিছুদিন ধরে লিখালিখি বন্ধ। তেমন একটা লিখতে ইচ্ছে করে না ইদানিং। যদিও লিনাক্স নিয়ে নাড়াচাড়া থেমে নেই। মাঝখানে বেশ কয়েকটা লিনাক্স ডিস্ট্রো চালিয়ে দেখলাম। উবুন্টু, মিন্ট, ফেডোরা বা সুযে এর মত পরিচিত না হলেও বেশ কিছু লিনাক্স ডিস্ট্রো নিজ নিজ বৈশিষ্টের জন্য আলাদা। এরকম কয়েকটা লিনাক্স নিয়ে হয়ত আগামী কয়েকটা পোস্ট লিখব। আজকের পোস্ট ম্যানড্রিভা নিয়ে। লিখার আগে আমার ডেস্কটপের বর্তমান চেহারাটা একবার দেই ( বড় করে দেখার জন্য ছবিতে ক্লিক করুন ) ।

Mandriva 2011 Desktop

কয়েকটি উইজেট সহ ম্যানড্রিভা ডেস্কটপ

আমি আগে ম্যানড্রিভা ব্যাবহার করিনি। ম্যানড্রিভা ২০১১ রিলিজ হয়েছে ২৯ আগস্ট। নতুন বলে একবার ভাবলাম চালিয়ে দেখি। পরে আবার কাজের চাপে ভুলে গিয়েছিলাম। যাক, মাঝখানে সাদী এসেছিল বাসায়, ওর কাছে আইএসওটা পেয়ে ভাবলাম চালিয়ে দেখি।

পেনড্রাইভ থেকে বুট করতে খুব একটা বেশি সময় লাগেনি। ওহ, ম্যানড্রিভার লগ ইন সাউন্ড টা অনেক সুন্দর। আমার মনে হয় সব লিনাক্সের মধ্যে ভাল ! প্রথম দেখায় অনুভুতিটা ভালোই। কেডিই কে অনেক পলিশ করে ম্যানড্রিভাকে একটু আলাদা করা হয়েছে। যদিও সুযে কেডিইর মত না। আমার মতে এটা অনেকটা উবুন্টু আর কুবুন্টুর মাঝামাঝি পড়ে ( ভিসুয়াল লুক ) । কেডিই ও আছে আবার উবুন্টুর মত একটা ক্লিন ভাব আছে, বিশেষত ফন্ট টা ভাল ( সুযের চিকন টাইপের ফন্ট টা সবার সহ্য হয় না, যদিও আমার মনে হয় কেডিইর সাথে আসলে ওই ফন্টটা ভাল যায় )।

Dolphin File Browser in Mandriva 2011

ডলফিন ফাইল ব্রাউজার (ডিফল্ট আইকন সেট)

ইনস্টলের পরে, আবার বুট করলাম। মানড্রিভায় লিনাক্স কার্নেল ৩ দেয়া হয়নি, আর কেডিই ভার্শন ৪.৬.৫। তবে সফটওয়্যার সিলেকশনটা ভাল। ফায়ারফক্স ৫। যদিও এটা চালু করলেই আপডেট করতে বলবে ! খুব ভাল লাগল ডিফল্ট মেইলিং অ্যাপ্লিকেশন হিসেবে থান্ডারবার্ড দেখায়। মিউজিক প্লেয়ার হিসেবে আমারক না থাকার মন খারাপটা পুষিয়ে দিল ক্লেমেন্টাইন। আর ভিডিও প্লেয়ার হিসেবে এস এম প্লেয়ার। কোডেক নিয়ে দৌড়াতে হল না শুরুতেই। গান, ভিডিও সবই চালাতে পারলাম। তার পরেও সাবধানতা হিসেবে আরো কয়েকটা কোডেক ইনস্টল করে নিলাম। সব মিলিয়ে ভালোই বলা চলে।

যেটা একটু বিরক্ত লেগেছে সেটা হল আমার কোর টু ডুয়ো ৩ গিগাহার্জ প্রসেসর আর ২ গিগা র্যাম এ ম্যানড্রিভা বুট করতে যে সময় নেয় সেটাকে আমার মোটামুটি অনন্তকাল মনে হয়। আর প্রথমবার সফটওয়্যার ইনস্টল করার পর পিসি হ্যাং করছিল, সেটা আপডেট করানোর পরে চলে গেছে। গ্রাফিক্স কার্ডের ড্রাইভার এটিআই এর সাইট থেকে নামিয়ে ইনস্টল করেছি ( যদিও ওটা ছাড়াই চলছিল )।

Application Menu in Mandriva 2011

অ্যাপ্লিকেশন মেনু

শেষ কথা হিসেবে বলব সাধারন ব্যাবহারকারীরা এটা ব্যাবহার করে দেখতে পারেন। বেশ ইউজার ফ্রেন্ডলি মনে হয়েছে আমার কাছে। আর কেডিই এর সুন্দর চেহারা, সথে ম্যানড্রিভার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য মিলিয়ে এটার ভিজুয়াল বিউটি বেশ ভাল।

এ পর্যন্ত থাক আজকে। ম্যানড্রিভার দরকারী লিংক গুলো এখানে দিয়ে দেই। সব দরকারী জিনিসগুলো এখানেই পাবার কথা।

4 thoughts on “ম্যানড্রিভা ২০১১ ( এ জার্নি বাই লিনাক্স )

  1. হুম শেষ পর্যন্ত ম্যানড্রিভার জার্নি!!! :p তবে যাই হোক সুন্দর হয়েছে documentary টা! :D

  2. আমিও কালকে রাতে নামিয়েছি, কয়েকটা আইএসও কিউতে পরে আছে, টেস্ট করে দেখার সময় পাচ্ছি না :(

Leave a Reply